গজনী অবকাশ, শেরপুর

গজনী অবকাশ , শেরপুর

পাহাড়ের ডাক এড়ানো দায়, চলো এবার পাহাড়ে যাই শহরের ব্যস্ততায় আপনি আর প্রকৃতির সানিধ্যে আপনির মাঝে এক বিশাল পার্থক্য রয়েছে আর তা অনুধাবন করার জন্য হৈহুল্লোর, বন্ধু বান্ধব বাদ দিয়ে একাকী ঘুরে আসুন প্রকৃতির খুব কাছ থেকে ৷ বিশ্বাস করুন, এক অন্য রকম নিজেকে খুঁজে পাবেন ৷ চলুন, প্রকৃতি তুলির সাথে আজ আমরা যাবো প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি পাহাড়ের কাছে ৷ গারো পাহাড়ের পাদদেশে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রকৃতি ঘেরা ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এক ছোট্ট সুন্দর জেলা শেরপুর ৷ উত্তরে ভারতের মেঘালয়, পশ্চিমে জামালপুর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে ময়মনসিংহ জেলা আর এদের মাঝখানে “পর্যটনের আনন্দে, তুলশিমালার সুগন্ধে” স্লোগানে স্বাগতম জানিয়ে অবস্থান করছে আমাদের প্রিয় শেরপুর জেলা ৷ শেরপুর শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে গারো পাহাড় ঘেরা বালিজুরী ৷আর আমাদের গন্তব্য সেখানেই ৷ পাহাড়ের পাশেই ফসলের খেত, তার ধার দিয়েই আঁকাবাঁকা মেঠো পথ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি পাহাড় দেখতে দেখতেই ৷ বিষয়টা এমন “দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না” ৷ এই সবুজ সুন্দর পাহাড়গুলোর কাছে যেতে হলে পেরোতে হবে অনেকটা পথ ৷ পাহাড় কেটে কি মনোরম রাস্তা বানানো ৷ হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেওয়া যায় ৷ বড় কোন গাড়ি এ রাস্তায় চলা কষ্ট সাধ্য ৷ বাইক, সাইকেল বা পায়ে হাটাই comfortable ৷ স্থানীয়দের পা ই ভরসা আর মাঝে মাঝে দেখা যায় সাইকেল ৷ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সবুজ গাছপালা যেন আপনাকে জড়িয়ে রাখবে ৷ এতটা রাস্তা এলাম, তেমন লোকালয় চোখে পড়ছে না ৷ ফাঁকে ফাঁকে দু একটা ঘর বাড়ি আর অনাবাদী জমি ৷ কোথাও পানিতে ছ্যাপছ্যাপে হয়ে আছে ৷ এই যে দেখা যাচ্ছে পানির প্রবাহ, এটা কোন যান্ত্রিক কলাকৌশল নয় ৷ একটা বাঁশকে মাটিতে গেড়ে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি উঠতে থাকে ৷ প্রাকৃতিক ফোয়ারা , তাই না ৷ দু একটা স্থানীয় দোকান যে চোখে পড়বে না তা নয় ৷ নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসের পসরা সাজানো ৷ চা আড্ডাতে তারাও মাততে জানে, এখানে দেখা পাবেন স্থানীয় কিছু মানুষের অলস সময় কাটানো ৷ আদিবাসীদের অধিকাংশই খ্রিস্টান ৷ তাই রাস্তার পাশেই পাবেন গির্জার দেখা ৷ এরপর হাটা পথ ৷ পাহাড় আরও দূরে ৷ লোকালয় দিয়ে হাটতে গিয়ে মনে হবে আপনি আপনার গ্রামেই আছেন ৷ ঐ যে বাড়িটা, এতটা পথ হাটার পর মনে হবে সেখানেই থেকে যাই৷ কিন্তু আমাদের লক্ষ্য পাহাড় ৷ অদ্ভুত মজার বিষয় কি জানেন, এই অঞ্চলটা এখনও প্রকৃতিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি ৷ মাটির ঘর, যা বিলুপ্ত প্রায়, এখানে দেখা যায় ৷ তাছাড়া সবুজ আর সবুজ শহরের পার্ক নামক মিউজিয়াম ছাড়া ততোটা দেখবেন না ৷ এরপরই শুরু সেই পাহাড়ের রাস্তা ৷ আহ! মনে হচ্ছে তেপান্তর পেরিয়ে তার দেখা পেতে যাচ্ছি ৷ দুপাশে ঝোঁপ আর লাল মাটির দুপায়া রাস্তা ৷ কান পাতলে পাহাড়ের এক অদ্ভুত শব্দ শুনতে পারবেন, অনুভব শক্তি যদি প্রখর হয় তবে পাহাড়ের মাতাল বুনো ঘ্রাণ টাও পেয়ে যেতে পারেন ৷ ঐ তো পাহাড়, যার খুব কাছাকাছি আমরা পৌঁছে গেছি ৷কি নির্মল সবুজ ৷ চোখে শান্তি আনে ৷ সাহস থাকলে উঠে পড়ুন পাহাড়ের উপর ৷ জঙ্গলের মাঝ দিয়ে রাস্তা, জোঁক যদি দু চারটা আপনার শরীরে আক্রমণ করে তবে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই ৷ তাছাড়া আছে বন্য হাতির উপদ্রব ৷ এই তো আমরা এখন পাহাড়ের উপর ৷ অনুভব করুন, তাকিয়ে দেখুন আকাশ অনেকটা কাছে ৷ নিচে সবুজের সমুদ্র, উপরে নীলের খাঁজে খাঁজে আটকে থাকা মেঘ.. নিমিষেই হারিয়ে ফেলবেন নিজেকে ৷ হারাতে থাকুন, অনুভব করুন ৷ আবার অন্য কোনো জায়গায় প্রকৃতি তুলির সাথে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকুন ৷ আজকের আয়োজন এই পর্যন্তই ৷ আল্লাহ হাফেজ ৷

Leave a Comment